আজ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীতে ২ সন্তানের গলা কাটার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

বুধবার রাজধানীর হাজারীবাগের বটতলা এলাকার বাসায় দুই সন্তানের গলা কাটার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বাবা জাভেদ। তাদের মধ্যে ছয় বছরের কন্যাশিশু জারিন হাসান রোজাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাবেদ ও তার ১৩ বছরের ছেলে রিজন হাসানের অবস্থাও গুরুতর। তাদের শঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিৎসক। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফী জানান, ‘করোনার কারণে জাবেদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিল। তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এতটুকুই বলেছেন তার স্বজনরা। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সংশ্নিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।’

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ‘হাজারীবাগের বটতলা বাজার এলাকার ১০ নম্বর গলিতে দোতলা টিনশেড বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকেন জাবেদ। তার কাপড়ের ব্যবসা ও মোবাইল ফোন রিচার্জের একটি দোকান রয়েছে। কয়েক মাস ধরে তার ব্যবসার অবস্থা খারাপ। সংসারের খরচ সামলাতে তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নেন। সেই টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। বুধবার স্ত্রী রিমা আক্তারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পরে রিমা রাগ করে দোতলা থেকে নিচতলায় নেমে যাওয়ার পর জাবেদ সন্তানদের গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান। তখন চিৎকার শুনে রিমা উপরে গেলে তাকেও আঘাত করেন জাবেদ। নিজের গলাতেও ছুরি চালান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা জাবেদ ও তার দুই সন্তানকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।’

Advertisements

রিমাও সাংবাদিকদযা জানান, ‘ঘটনার সময় তিনি নিচে শাশুড়ির ঘরে ছিলেন। পরে চিৎকার শুনে উপরে ওঠেন। তিনিও স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডের কারণ জানেন না বলে দাবি করেন।’

চিকিৎসকরা জানান, ‘জাবেদ ও রিজনের গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসা দিয়ে তাদের সারিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে তাদের ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।’

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ