আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের শুনানির অপেক্ষা।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত মামলা দুটি এখন দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। হাইকোর্টে শুনানি পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মামলার পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি হয়েছে। এখন পেপারবুক যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর বেঞ্চ নির্ধারণের পালা। তারপর শুনানি শুরু হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে এসেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে।’

১৬ বছর আগে এই দিনে ভয়ংকর সেই গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন দুই শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৪ জন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) সদস্য। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং অপর ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

Advertisements

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় দেন। এরই মধ্যে কারাগারে থাকা দণ্ডিত ব্যক্তিরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুই মামলায় জেল আপিল করেছেন। মোট আপিলের সংখ্যা ৪৪। এর বাইরে আরও ৩৯টি নিয়মিত আপিল করেছেন দণ্ডিত ব্যক্তিরা।

জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করা আসামিদের মধ্যে আছেন দুই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, বিচারিক আদালতের রায়ে দুই বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক ও আশরাফুল হুদা। তাঁরা গত বছরের ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান গত বছর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে সাজা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল দিয়ে তাঁদের অর্থদণ্ড স্থগিত করেন বলে জানান তাঁদের আইনজীবী আরশাদুর রউফ।

 

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ