আজ ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

https://jatiyobarta.com/wp-content/uploads/2020/11/মসজিদ-ই-নববীর-জানা-অজানা-কিছু-তথ্য.jpg
মসজিদ-ই-নববীর জানা-অজানা কিছু তথ্য

মসজিদ-ই-নববীর জানা-অজানা কিছু তথ্য !

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদ-ই-নববী সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত ।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই ঐতিহাসিক মসজিদের পাশেই শায়িত আছেন। মসজিদ-ই-নববীর বিশেষ পাঁচটি তথ্যা।

মসজিদ-ই-নববীর পশ্চিম দিকের প্রাচীর ঘেঁষে ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থান। এখানে মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী, কন্যা, একাধিক আত্মীয় ও সাহাবির কবর রয়েছে। এ ছাড়া আছে সৌদি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, হাসপাতাল, শপিং মল ও বিলাসবহুল হোটেল।

ইমাম ও মুয়াজ্জিন

Advertisements

মসজিদ-ই-নববীর সর্বপ্রথম ইমাম ছিলেন মহানবী (সা.)। তাঁর ইন্তেকালের পর মহান চার খলিফা ও বিশিষ্ট সাহাবিরা ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে মসজিদের প্রধান ইমাম শায়খ আলী আল হুজাইফি।  ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর তাঁর সহযোগী হিসেবে মসজিদ-ই-নববীতে আরো নিয়োগ পেয়েছেন শায়খ আহমদ হুজাইফি ও শায়খ খালিদ আল মিহান্না। এ ছাড়া আরো কয়েকজন ইমাম আছেন, যাঁরা তাহাজ্জুদসহ বিশেষ বিশেষ সময়ে ইমামতি করেন। মসজিদ-ই-নববীর জন্য সর্বপ্রথম মুয়াজ্জিন বেলাল (রা.)। বর্তমানে মসজিদ-ই-নববীর প্রধান মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুর রহমান খাশোগি। তিনি জানান, বর্তমানে মসজিদ-ই-নববীতে অন্তত ১৭ জন মুয়াজ্জিন আছেন। তবে প্রতিদিনের জন্য তিনজন মুয়াজ্জিন নির্ধারিত রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ পবিত্র কোরআনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব

নবীজির রওজা

প্রিয় নবীর ইন্তেকালের পর যখন তাঁকে সমাহিত করার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছিল, তখন আবু বকর (রা.) জানান, রাসুল (সা.) বলেছেন, নবীদের যেখানে মৃত্যু হয়, তাঁদের সেখানেই দাফন করা হয়। আবু বকর (রা.) যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন তিনি আয়েশা (রা.)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন যে আমি রাসুল (সা.)-এর পাশে সমাহিত হতে চাই। কন্যার অনুমতি সাপেক্ষে মৃত্যুর পর তাঁকে মহানবী (সা.)-এর পাশে দাফন করা হয়। অনুরূপ আয়েশা (রা.)-এর অনুমতি সাপেক্ষে ওমর (রা.)-এর মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। বিভিন্ন সংস্কার ও সম্প্রসারণের পর ‘তিন কবর’ বিশিষ্ট আয়েশা (রা.)-এর হুজরাটি মূল মসজিদের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রসিদ্ধ সবুজ গম্বুজটি হুজরার ওপরই অবস্থিত।

ছাতা ও দরজা

মসজিদ-ই-নববীর মুখপাত্র শায়খ আবদুল ওয়াহেদ হাত্তাব জানান, মসজিদের আঙিনায় ২৫০টি মিনারের ওপরে স্বয়ংক্রিয় বিশেষ ছাতা স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ছাতা মসজিদের অন্তত ১৪৩ বর্গমিটার জায়গায় ছায়া দান করে। ছাতাগুলো অন্তত ৮০০ মুসল্লিকে মৌসুমি রৌদ্রতাপ ও ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষা দেয়।

আর্কিটেকচারাল ডিজাইন অনুসারে বর্তমানে মসজিদের দরজার সংখ্যা ৪১। প্রতিটি দরজার ওপরে একটি শিলালিপি আছে।  পবিত্র কোরআনের সুরা হিজরের ৪৬ নম্বর আয়াতের অনুসারে তাতে লেখা ‘শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রবেশ করুন’। তবে শায়খ হাত্তাবি বলেছেন, মসজিদ-ই-নববীর দরজার সংখ্যা ৮৫। কিছু গেটে দরজা রয়েছে মাত্র একটি, কিছুতে দুটি। এভাবে একটি গেটে পাঁচটি দরজা পর্যন্ত আছে।

পাঠাগার

মসজিদ-ই-নববীতে সমৃদ্ধ পাঠাগার আছে। ১৩৫২ হিজরিতে এটি নির্মাণ করেন আওকাফ ডিরেক্টর আবিদ মাদানি। পাঠাগারে এমন অনেক কিতাব আছে, যেগুলো যুগ যুগ ধরে মসজিদ-ই-নববীতে পঠিত হতো। পাঠাগারের পাশাপাশি এই প্রকল্পে অডিও সেকশন আছে। এখানে মসজিদ-ই-নববীর ক্লাস, খুতবা এবং ইবাদত সংরক্ষণ করা হয়। অধ্যয়নের জন্য নারী-পুরুষের জন্য আলাদা কক্ষসহ আধুনিক প্রায় সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এই পাঠাগারে।

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ