আজ ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পোলাডা খালি কয় বাজান কই মা, বাজানের কাছে লইয়া যাও

পোলাডা খালি কয় বাজান কই মা, বাজানের কাছে লইয়া যাও

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ মাদারীপুরের আবুল বাসার মোল্লা (৪০) মারা গেছেন।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামে তার লাশ দাফন করা হয়। নিহত আবুল বাসা মোল্লা নারায়ণগঞ্জের একটি ওষুধ কোম্পানীর মেশিন অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।

তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মালেক মোল্লা ও আলিমননেছার ছেলে। যেই মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তার পাশেই একটি মেস বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

Advertisements

সোমবার সরেজমিনে আবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মানুষের ভিড়। নিহতের পরিবারের সবাই একে অন্যের জড়িয়ে কান্না করছে। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনো কখনো প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বামীকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ তাজিয়া বেগম। স্বামীর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওগের বাজানে আমাগো এইভাবে ছাইড়া চইল্লা যাইতে পারে না। পাঁচ পোলা মাইয়া লইয়া আমি কার কাছে হাত পাতুম। বড় পোলাডা কলেজে পড়ে, তিনডা মাইয়া এখনো ছোট। ছোট পোলাডা ওর বাজানরে ছাড়া কিছুই বুঝে না। খালি কয় বাজান কই মা, বাজানের কাছে লইয়া যাও।

পরিবার সূত্র জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আবুল বাসার দগ্ধ হন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তার সহকর্মীদের কাছ থেকে মুঠোফোনে খবর আসে আবুল গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। খবর পাওয়ার সাথে সাথে শনিবার সকালে আবুলের স্ত্রী তাজিয়া বেগম তার ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুর থেকে চলে যান ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। এরপর থেকে সেখানকার অভ্যর্থনাকক্ষে অপেক্ষা করতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর আসে আবুল আর নেই। ওই রাতে স্বামীর লাশ নিয়ে দেশের বাড়ি মাদারীপুরে ফেরেন। পরে সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

নিহত আবুল বাসারের বড় ছেলে হাবিবুর বাসার এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী।  তিনি বলেন, আব্বায় মাস শেষে টাকা পাঠাইতো। সেই টাকায় আমার সব ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ চলতো। এখন আর টাকা পাঠাইবে কে? আমাদের সবার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেল।

প্রতিবেশী ইদ্রিস আলী বলেন, আবুল বাসার অনেক ভালো একজন মানুষ ছিল। নামাজ রোজা কখনোই কিছু বাদ দিতো না। নারায়ণগঞ্জে ছোট্ট একটা চাকরি করতো, আর্থিক অবস্থা খারাপ তবুও, কাউকে নিজের কষ্টটা বুঝতে দিতো না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন আবুল বাসার মোল্লা। তাঁর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছে না তার পাঁচ সন্তান, স্ত্রী ও স্বাজনেরা। আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে বাড়ির চারপাশ।

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ