আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পিএসসি,জেএসসি ও এইচএসসি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

প্রতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) অনুষ্ঠিত হয়৷ এবার করোনার কারণে সেটা হয়নি৷ ওই পরীক্ষা কবে হবে তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়৷ তবে এইচএসসি পরীক্ষা যে হবে তা নিশ্চিত৷

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) না নেয়ার পক্ষে মতামত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন৷ জেএসসি পরীক্ষার ব্যাপারেও একই ধরনের মতামত পাঠানো হচ্ছে৷ আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কীভাবে নেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

এদিকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করোনার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে৷ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো না হলেও নানা ধরনের কথা চলছে৷ এই সব বিষয় নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে সরকারের নানা পর্যায় থেকে অনুমান নির্ভর কথা বলায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে৷

Advertisements

বাংলাদেশে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) করোনা হানা দেয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ এর ফলও প্রকাশ হয়েছে৷ কিন্তু এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জেএসসি (জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা) এবং এইচএসসি পরীক্ষা আটকে গেছে৷ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে৷ তবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়৷ সেটা সম্ভব হলে নভেম্বরে  এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে৷  তবে তাও নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর ৷ গত ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে৷ সেই সব পরামর্শ নিয়ে কাজ হচ্ছে৷ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ কোনো পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ হয়নি৷ কোভিড নাইনটিনের মহামারিকে বিবেচনায় নিয়ে জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিকল্প নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাবছে৷ এই বিষয়ে এখনও কোনো  সিদ্ধান্ত হয়নি৷ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷

পিএসসি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতামত:

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষার নানা তারিখ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং উদ্বেগের মধ্যে আছেন অভিভাবকেরা৷ তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে কি সিদ্ধান্ত হচ্ছে৷ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও এ নিয়ে মানসিক চাপে আছেন৷

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন জানান, ‘‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে কথা বলেছেন৷ সেখানে মূখ্য সচিব ছিলেন এবং আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন সচিব ছিলাম৷ সেখানে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই আমি পিএসসি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে আজ (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতামত পাঠিয়েছি ৷ আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা না নেয়ার জন্যও মতামত পাঠানো হচেছ৷ তবে এইচএসসি পরীক্ষা হবে৷ সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে নেয়া যায় তার সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে৷ পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে৷ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এনিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হবে৷’’ পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা না হলেও স্কুলগুলো খোলার পর নিজেরা সমাপনী পরীক্ষা নিতে পারবে৷

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন জানান, ‘‘মন্ত্রণালয় স্কুল খোলা বা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে৷ তবে এবিষয়ে আমাদের কাছে কোনো মতামত চায়নি৷ আমরা নিজেরাও কোনো মতামত দেইনি৷’’ এখন যা পরিস্থিতি তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষা নেয়া কতটুকু যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি নিজের কোনো মতামত না দিয়ে বলেন, ‘‘অভিভাবকদের সাথে কথা বলে দেখব৷’’

অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘‘করোনার সংক্রমণ এখনও কমেনি৷ তাই কোনোভাবেই আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন খোলার পক্ষে নয়৷ বিশেষ করে যারা শিশু তারা তো সামাজিক দূরত্বই বোঝে না৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি৷’’

তবে তিনি মনে করেন করোনা সংক্রমণ কমে এলে নভেম্বরের দিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে৷ আর পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা নেয়ার দরকার নাই৷ তার কথা, ‘‘আমাদের সন্তানরা না বাঁচলে পরীক্ষা দিয়ে কী হবে?’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘এখন মূলত টিউশন ফি আদায়ের জন্যই শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের একটি গ্রুপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পাঁয়তারা করছে৷’’

 

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ