আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নয়নের লাশ বাড়ি ফিরলেও অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দেওয়ার পয়সাও নেই বাবার হাতে

দিনমজুর মেহের আলীর বড় ছেলে আলী নয়ন (২৭) নারায়ণগঞ্জে মডেল গার্মেন্টস নামে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। সেখানে থেকে কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে বাড়ি করে মা-বাবা ভাইদের এলাকায় ফেরত পাঠিয়েছেন।গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের মসজিদে এসি বিস্ফোরিত হয়ে জীবনের প্রদিপ নিভে গেল নয়নের।নয়ন বাড়ি ফিরলেন ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় অ্যাম্বুলেন্স বগুড়া পৌঁছেছে বলে জানান নয়নের লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া তার বন্ধু শুভ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শুভ বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের গার্মেন্টস ছুটি হয়। নয়ন বাসায় ফিরে নামাজ পড়তে মসজিদে এসেছিল। নামাজ পড়ে সে ফিরলে আমাদের একসাথে রাতের খাবার খাওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ শুনলাম বিস্ফোরণ, মসজিদে আগুন লাগছে। গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। আমরা ওই মসজিদের মেসেই থাকি। তাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে অবাক হই, ভয় পেয়ে যাই। ওখানে না পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসি। সেখানে ওর লাশ ও মোবাইলটি পাই। এরপর ওর বাড়িতে কথা হয়। ওর ভগ্নিপতি ও মা শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছালে লাশ বুঝে পান। এরপর আমরা ১৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে লাশ নিয়ে রওনা দিয়েছি। কিন্তু লাশবাহী গাড়ির টাকাও আমাদের হাতে নেই। যদি পারেন আপনারাও একটু সহযোগিতা করবেন। বিষয়টি দেখেন কী করা যায়।’

Advertisements

নয়নের সহকর্মী শুভ আরও বলেন, ‘অনেক মেধাবী ও পরিপাটি ছিল নয়ন। ও স্যাম্পল সুপারভাইজার পদে কাজ করতো। সব সময় সুন্দর পোশাকে থাকার চেষ্টা করতো। সব শেষ তার পরনে যে টি-শার্টটি ছিল তাতে লেখা ছিল ‘নেভার গিভ আপ’-মানে কখনও হাল ছাড়বেন না। কিন্তু, আজ ঠিকই তাকে সংসারের হাল ছেড়ে ওপারে পাড়ি জমাতে হলো। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন সে বেহেশত পায়।’

নয়নের বাবা মেহের আলী, দুই ছেলে ও মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা কেবল সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে।ছেলের লাসের অ্যাাম্বুলেন্সের ভাড়া দেওয়ার টাকা নেই বাবার কাছে।

 

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ