আজ ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ছেলে পা চেপে ধরে, মেয়ে হাত, স্ত্রী মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে স্বামীকে

ছেলে বাবার দুই পা চেপে ধরে, মেয়ে ধরে দুই হাত। আর মা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে স্বামীকে। নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। যদিও হত্যা করে গোপনে লাশ দাফন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন নিহতের স্ত্রী শারমীন আক্তার ডলি (৪০), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে তানভীর হাসান ডালিম। হত্যার পেছনের কারণ ছিল স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহ করত। এর জের ধরেই স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করে ওই হত্যাকান্ড ঘটায়।

হত্যার পর মেয়ে সামিয়া এক কল্পকাহিনি তৈরি করে এলাকায় প্রচার করেন। তার গল্পের সারাংশ ছিল এমন, তার বাবা বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। ওই সময় অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাননি তাই হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনা। নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাসদাইরে। এ ঘটনায় নিহত জামাল মিয়ার বড় ভাই আবদুল হান্নান বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যা রাতে শারমীন আক্তারকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন কামাল জানান, নিহত জামাল মিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলোই প্রমাণ করে এটা হত্যাকান্ড। তাই নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদে প্রথম দিকে একেকজন একেকভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছিল। একপর্যায়ে রাতে তারা স্বীকার করে হত্যাকান্ডের বিষয়টি।

পরিকল্পিতভাবেই তারা জামাল মিয়াকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, জামাল মিয়াকে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে দেওয়া হয়। এক সময় জামাল মিয়া গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়। পরে ঘুমের মধ্যে জামাল মিয়ার দুই পা চেপে ধরে ছেলে ডালিম। আর দুই হাত ধরে মেয়ে সামিয়া আক্তার। এরপর হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রী ডলি মাথায় একের পর এক আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে জামাল মিয়ার লাশ টেনেহিঁচড়ে বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। পরে পরিকল্পনা মতো তারা ঘটনাটির একটি গল্প বানায় এবং ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীদের কাছে প্রচার করে।

Advertisements

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ