আজ ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

https://jatiyobarta.com/wp-content/uploads/2020/11/ইসলামের-বিধানে-হিজড়াদের-অধিকার-.jpg
ইসলামের বিধানে হিজড়াদের অধিকার

ইসলামের বিধানে হিজড়াদের অধিকার

হিজড়া হল মনোদৈহিক বৈকল্য বা শরীরবৃত্তীয় ও মনোজাগতিক বিকাশের অপূর্ণতা। এটি হরমোনঘটিত একটি সমস্যা। শরীরের যে হরমোনের কারণে একজন মানুষ পুরুষ বা নারী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়, সেই হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকাই এর প্রধান কারণ।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী হিজড়ারা সাধারণ মানুষের মতই তাদের পূর্ণ অধিকার লাভ করবে।

লেখাপড়া, শিক্ষাদীক্ষা, চাকরিবাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উত্তরাধিকার, সম্পদের মালিকানা; ধর্ম-কর্ম, সামাজিক ও উন্নয় কাজের সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই তাদের ন্যায্য অধিকার ইসলাম স্বীকার করেছে।

Advertisements

এজন্য প্রয়োজন বিজ্ঞ উলামায়ে কিরামের সুচিন্তিত মতামত, সুশীল সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতা।

কিন্তু আমাদের সমাজে পর্যাপ্ত ইসলামী জ্ঞান না থাকায় এবং নানান কুসংস্কার ও সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক দৈন্যতার কারণে হিজড়ারা বঞ্চিত ও অবহেলিত; ক্ষেত্রবিশেষ নিপীড়ন ও নির্যাতনের স্বীকার।

তাই ইসলামী বিধান মতে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ মসজিদের নগরীর প্রথম মসজিদ কোনটি ?

আর যিনি বানিয়েছেন সবকিছু জোড়ায় জোড়ায়। (সূরা-৪৩ যুখরুফ, আয়াত: ১২)। আর নিশ্চয় তিনি সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় পুরুষ ও নারী। (সূরা-৫৩ নাজম, আয়াত: ৪৫)।

হে মানবজাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে। (সূরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১৩)। আর আমি বানিয়েছি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় (পুরুষ ও নারী)। (সূরা-৭৮ নাবা, আয়াত: ৮)।
হাদিস শরীফে এসেছে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমরা এদের হিজড়া বলো না; এরা নারী বা পুরুষ।

যে কারণে ফকীহগণ হিজড়াকে দুইভাগে বিভাজিত করেছেন, যথা- নারী হিজড়া ও পুরুষ হিজড়া। অর্থাৎ পুরুষ হিজড়া হলো অপূর্ণ পুরুষ (নারীও নয় এবং নারী পুরুষের মাঝামাঝিও নয়); আর নারী হিজড়া হলো অপূর্ণ নারী (পুরুষও নয় এবং পুরুষ ও নারীর মাঝামাঝিও নয়)।

এ কারণে নারী হিজড়ারা পুরুষ সমাজে যাওয়া নিষেধ এবং পুরুষ হিজড়ারা নারী মহলে প্রবেশ করা নিষেধ রয়েছে।

সম্পদের উত্তরাধিকারের বণ্টন ও মালিকানা এবং সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও হিজড়াকে নারী বা পুরুষ কোন এক শ্রেণির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

ঈমান, ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এমনকি বিয়েশাদিসহ সব ইসলামী বিধিবিধান তাদের ওপর (নারী ও পুরুষ হিসেবেই) বর্তাবে।

অনুরূপভাবে হালাল হারাম, ন্যায়-অন্যায়, হুদুদ ও কিছাছ এবং জান্নাত-জাহান্নামও তাদের জন্য নারী বা পুরুষ হিসেবেই প্রযোজ্য হবে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো হিজড়া আলাদা কোনো সত্তা নয়; এরা নারী বা পুরুষ। আমিন।

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ