আজ ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আহত মুসল্লিদের রক্ত দিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়

আহত মুসল্লিদের রক্ত দিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই আহত মুসল্লিদের জন্য লাইন ধরে রক্ত দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কার রক্ত কার শরীরে যাবে তা কেউ জানে না, জানে শুধু রক্তের বিকল্প নাই তাই দিতে হবে।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কতজন টিকে জানা নেই। তারপরও তারা উদাহরণ তৈরি করেছেন যে, মানবতা বেঁচে আছে এখনো।

রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্সটিটিউটের সামনে শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু মানুষের লাইন শেষ হয়নি। অনেক রাত পর্যন্ত রক্ত দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মানুষ।

Advertisements

শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দুর্ঘটনার জন্য সকাল ৮টা থেকে রক্ত সংগ্রহ শুরু করেছিলাম। চেয়েছিলাম গতকাল রাতে। জানতাম না আজ দিনে কেমন সাড়া পাবো। দিন যত গড়িয়েছে, ততই অভিভূত হয়েছি। আটতলায় আমাদের ব্লাড ব্যাংক। অনেক চাপ থাকার কারণে লিফটে জায়গা হচ্ছিল না। তাই অনেকেই সিঁড়ি বেয়ে এসেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের যে পরিমাণ রক্ত ও প্লাজমার প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি আমরা পেয়েছি। কিন্তু এখনো অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে রক্ত দেয়ার জন্য।

মানুষের আবেগের উদাহরণ দিয়ে ডা. আশরাফুল হক বলেন, ঘর্মান্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিও হাঁপাতে হাঁপাতে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ব্লাড দেয়ার জন্য। জানতে চাইলাম কিভাবে জানলেন? জানালেন হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, এত ভিড়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারলেন এবং চলে আসলেন তাদের পাশে দাঁড়াতে। কাল উনার দুই ছেলেকে নিয়ে আসবেন কথা দিলেন। কেউ বলেছেন মিডিয়ায় দেখে এসেছেন।

তিনি জানান, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে ১০০ ইউনিট দেয়া হয়েছে। মেডিকেলের স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝ থেকে মেডিসিন ক্লাব পাশে দাঁড়িয়েছে। রক্ত সংগ্রহের জন্য এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি সংগঠন সারাদিন সহযোগিতা করেছে।

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ