আজ ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইউএনও ওয়াহিদার উপর হামলার ৩ কারন জানা গেছে

অপারেশন থিয়েটারে ইউএনও ওয়াহিদা খানম

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে মাথায় অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নয়টার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

মাথার বাম পাশে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচারের কথা জানান রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসকরা। তবে তার সেন্স আগের তুলনায় কিছুটা ভালো।

এর আগে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisements

এরআগে বিকেল ৪টার দিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর জাহিদ বলেছিলেন, ‘উনি সংকটাপন্ন অবস্থাতেই আছেন, উনার ব্লাড প্রেশার, পালস যদি উন্নতি না করে এবং জ্ঞানের মাত্রা যদি আরো ডিটোরেট করে, তাহলে উনি যথেষ্ঠ বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে। তবে আমরা আশা করছি উন্নতি হয়ে যাবে, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

বিকেলে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমকে দেখতে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এসময় তিনি সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলাকারী দুজন তরুণ। তাদের গড়ন হালকা স্বাস্থ্যের। প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

হামলাকারীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে, কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে হালকা স্বাস্থ্যের দুজন তরুণ। তবে তাদের চেহারা পুরো বোঝা যাচ্ছে না। হাতুড়ি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন তিনি আশাবাদী, খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আহত ইউএনওকে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নির্দেশ আছে।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে ওয়াহিদা খানমকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হয়।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে পিটিয়ে আহত করে দুষ্কৃতকারীরা। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার বাবা ওমর আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওয়াহিদা খানমের বাবার নাম ওমর আলী। নওগাঁ থেকে মাঝে মাঝে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী। ওয়াহিদা খানমের স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাদের তিন বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। হামলার সময় শিশুটি ঘুমন্ত ছিল। বর্তমানে সে ভালো আছে।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল আলম জানান, আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। প্রথমে তার বাবাকে আহত করে পাশের ঘরে বাথরুমে আটকে রাখে। পরে ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি তাকেও পিটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

মূলত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হত্যার উদ্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা জেলা প্রশাসকের। ঘটনার পর জেলা প্রশাসকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা-ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, প্রথমে নির্বাহী কর্মকর্তার বাবাকে আহত করে বাথরুমে আটকে রাখে। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বাসভবনের নাইট গার্ডকে তালা দিয়ে আটকে রাখে। কাজের মেয়েও নিচে ছিল।

এটি কোনো ডাকাতি ছিল না, সম্ভবত হত্যার উদ্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

     এই বিভাগের আরও খবর দেখুনঃ